দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

১৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৩৫  
দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মুহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞান গবেষণায় যাতে সবাই এগিয়ে আসে, সেজন্য আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে গবেষণায় জোর দিতে হবে। সরকার গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখেছে।” শেখ হাসিনা আরো বলেন, যেসব দেশ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে তারাই অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি করতে পারছে। কাজেই উন্নতি করতে হলে গবেষণার বিকল্প নেই। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে বিএনপি। তাদের কাছে ক্ষমতা ছিলো ভোগের। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণাকে আমরা সবসময় গুরুত্ব দিই। যেহেতু আমরা পরপর তিনবার সরকার গঠন করতে পেরেছি, দীর্ঘসময় সরকারে থাকতে পেরেছি (প্রায় ১৩ বছর), আমাদের একটু সুযোগ হয়েছে কাজ করার। ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠা এবং আইসিটি শিল্পের বিকাশে এই ১৩ বছর ধরে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছি। ’ প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে কোনও বেতন দেওয়া হয় না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আমাদের সজীব ওয়াজেদ জয়, সে আমাদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। সে কিন্তু অবৈতনিক, এটাও আমি জানিয়ে রাখি। কারণ অনেক সময় অনেকে অনেক উল্টোপাল্টা কথা বলে। নিজের দেশের কল্যাণে, দেশের মানুষের শিক্ষায় সে কাজ করে যাচ্ছে দেশের মানুষের জন্য। ’ অনুষ্ঠানে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও টিকা নেয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণায় ‘কিছুটা’ পিছিয়ে থাকার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, “খুব কম আমাদের চিকিৎসক আছে, যারা আসলে... তারা রোগীর সেবা দিতে যতটা আগ্রহী, ঠিক গবেষণার দিকে নেই। হাতে গোনা কয়েকজনই নিয়মিত গবেষণা করেন।” “তবে এই ক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি যে আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণাটা একান্তভাবে দরকার।” মৌলিক গবেষণার পাশপাশি প্রায়োগিক গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গবেষণার সাথে সাথে এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটার ওপরও আমরা জোর দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এসেছে, এটা দ্রুত ছাড়াচ্ছে, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি, তারা এখনই টিকা নিয়ে নিন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি কাজী আব্দুল ফাত্তাহ, মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এবং বিজ্ঞানী ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে স্বাভাব সুলভ কাব্যিক ভাষণে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, জাতির পিতার সোনার বাংলার অন্যতম অনুষজ্ঞ জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ। তিনি চেয়েছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্রকে জয় করতে। ... উৎপাদন বাড়াতে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গবেষণার মাধ্যমে কৃষিতে উৎপাদ বাড়িয়েছে।